বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

পেন্সিল’ ইতিকথা

পেন্সিল! শব্দটি শুনলে সবার আগে রোমানদের আবিষ্কার করা সরু এবং কঠিন পিগমেন্ট কোরের কথা মনে আসে যা কাঠের তৈরি শক্ত আবরণ দ্বারা মোড়ানো থাকে। তবে এই পেন্সিল

একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ সাহিত্য চর্চার গ্রুপ। এক স্বপ্ন, সম্ভাবনার নাম। প্রথিতযশা শিল্পী সাহিত্যিকের তুলনায় একদম আনকোরা কিছু গুণীজনের অংশগ্রহণে আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে, ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৈরি হয়েছিলো ফেইসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘পেন্সিল’। এঁদের কেউ লেখিয়ে, কেউ আবৃত্তিশিল্পী, কেউ গায়ক-গায়িকা, কেউ বা আঁকিয়ে, ফটোগ্রাফার, এমন কি উদ্ভাবনীমূলক দারুন সব হস্তশিল্পীও রয়েছেন একাধারে। অল্প ক’দিনেই ডালপালা ছড়িয়ে পেন্সিল ধীরে ধীরে এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের যাপিত জীবনের পাশাপাশি সাহিত্য জগতে নিয়মিত চর্চাই এর উদ্দেশ্য। পেন্সিল এর স্বপ্ন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই চর্চা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। 

 

পেন্সিল একটি ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ হলেও নিজেকে কখনো আন্তর্জালের জগতে সীমাবদ্ধ রাখেনি। গত দুই বছরে পেন্সিল শিল্প সাহিত্যর প্রায় সকল শাখাতেই পদচারনা করেছে। এই সৃষ্টিশীলতাকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে জন্মের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায়, গতবছর ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭’ তে প্রকাশিত হয়েছিলো প্রথম 'পেন্সিল' সংকলন। পেন্সিল সংকলনের দারুণ সাড়া প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল এই সৃষ্টিশীলতাকে অব্যাহত রাখার। তারই পরবর্তী প্রয়াস হিসেবে আমাদের প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব, প্রাণের উৎসব ‘নববর্ষ’ এ প্রকাশিত হয়েছিল ‘পেন্সিল ই-বুক ১৪২৪’ বৈশাখী সংকলন। পেন্সিল এর পরবর্তী পদক্ষেপ ছিল প্রথম বর্ষপূর্তিতে পাঁচদিন ব্যাপী 'পেন্সিল বর্ষপূর্তি: জীবনের যত রঙ’। এই আয়োজনে প্রথমবারের মত ছিল পেন্সিল এর অসামান্য সব আঁকিয়ে এবং আলোকচিত্রীদের আঁকা এবং তোলা অসাধারণ সব ছবির প্রদর্শনী ‘পেন্সিল আলোকচিত্র এবং চিত্রকলা প্রদর্শনী’।  শুধু তাই নয়, বর্ষপূর্তিতে প্রকাশিত হয়েছিলো পেন্সিল এর সদস্যদের লেখা এবং আবৃত্তি করা কবিতা নিয়ে পেন্সিল এর প্রথম সিডি সংকলন ‘তবু কবিতায় বলে দিয়েছি'। অনুষ্ঠানের দারুণ সাড়া জানান দিয়ে গেছে যে নতুনদের শানিত করার যে প্রত্যয় নিয়ে এই পথচলার শুরু, তা অব্যাহত রাখতে হবে।

 

 

অনলাইন এবং অফলাইন সৃজনশীলতা এবং সাহিত্যচর্চাকে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পেন্সিল এর প্রতিষ্ঠাতারা এখন আরও প্রতিশ্রুতিশীল। এই কাজগুলোকে আরো সাবলীল গতিতে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য পেন্সিল বেশ কিছু পরিকল্পনা সামনে নিয়ে এগুচ্ছে। আর কাজগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরতে হলে খুব শক্ত একটি সাংগঠনিক পরিচয় দরকার। সেই চিন্তার বহিঃপ্রকাশ হলো 'পেন্সিল ফাউন্ডেশন'।

 

অমর একুশে বইমেলা ২০১৮ তে পেসিল-জাগৃতি প্রতিভা অন্বেষণ এর  মাধ্যমে মলাট-বন্দি করেছে সাত জন নবীন লেখক/কবি কে। এসবের পাশাপাশি ই-বুক, প্রকাশনা, কবি ও লেখকদের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি নিয়ে প্রতিযোগিতা ও চিত্র প্রদর্শনীর কার্যক্রম আরও বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠাতাদের। প্রতিবছর সংখ্যাটা বাড়বে, এমনটাই তাদের আশা। পেন্সিল এর সদস্যদের নিয়ে দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং নিয়মিত আড্ডা বা পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে শুধু সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতাই বাড়ছে না, নিজেদের মধ্যে সাহিত্য আলোচনার মাধ্যমে তারা নিজেদের জ্ঞানকেও শাণিত করছেন।

 

বর্তমানে পেন্সিল এর ১৫ জন এডমিন আছেন, যারা বীজ বুনেছেন সুন্দর একটি ভবিষ্যতের স্বপ্নের। আর এই স্বপ্নকে গতিশীল রাখছেন পেন্সিল এর ৯০,০০০ এরও বেশি সদস্য, যাদের নিয়ে পেন্সিল এগিয়ে যাচ্ছে তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে।

 

এ বছর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আরেকটি অভিলাষ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে এসেছে পেন্সিল।  সকল নবীন-প্রবীণ কবি, সাহিত্যিক, গল্পকার, শিল্পীদের সৃষ্টিকে আরও দৃঢ় মঞ্চ ও পরিবেশ দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হতে চলেছে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.pencilors.com। ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপের সকল মান সম্মত, সৃজনশীল লেখাগুলো স্থান পাবে এই ওয়েবসাইটে। আর পাঠকরা পাবে ভিন্নচোখে শব্দ উপলব্ধি করার স্বাদ।   

 

 

মনের সূক্ষ্ম যত আবেগ আছে তা চর্চার মাধ্যমে সুন্দরের বিকাশ ঘটানোই পেন্সিল এর লক্ষ্য। শুদ্ধ সাহিত্য ও শিল্প চর্চা এই প্রজন্মকে ছাড়িয়ে আরো বড় হয়ে প্রজন্মান্তরে ধারণ করাই পেন্সিল এর অভিপ্রায়। আর এটা শুধুমাত্র সম্ভব প্রতিষ্ঠাতা আর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, উদ্দীপনা আর যত্নে।

আর তাই পেন্সিল এর পক্ষ থেকে সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানায় হলো। ওয়েবসাইট দিয়ে পথচলা শুরু হলেও পেন্সিল- কে যেতে হবে বহুদূর, সকল পেন্সিলরদের নিয়ে। 

লিখাটি ২৩২২ বার পড়া হোয়েছে