শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬
 কবিতা 

গল্প গুলো বাড়ি গেছে

একটা বাগধারা আছে না, আগে দর্শনধারী তারপর গুনবিচারী? মাহরীন ফেরদৌস ওরফে একুয়া রেজিয়ার লেখা ‘ গল্প গুলো বাড়ি গেছে’ বইটা দেখার পর আমার ঠিক সেরকম দশা হলো! এতো সুন্দর ঝকঝকে বর্ণিল প্রচ্ছদ! কেবলই ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে! এরকমটা বেশ কয়েকবারই হলো যে, বই পড়তে পড়তে থমকে গিয়ে কিছুক্ষণ প্রচ্ছদের দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকলাম তারপর আবার বই পড়তে শুরু করলাম! বইটা পড়তে গিয়ে অবশ্য আমার মনে হচ্ছিলো প্যান্ডোরার বাক্স খুলে বসলাম। এক ঝাঁপি নানা বর্ণের গল্প ছুটে বেরিয়ে পড়ে নানা অনুভূতি দিয়ে বই পড়ার মুহুর্ত গুলো বর্ণিল করে তুললো যেন!

বিকেলের মৃদু ওম মাখানো আবহাওয়ায় ছোট গল্পের একটা বই নিয়ে বসতে আমার বরাবরই খুব ভালো লাগে, আর গল্প গুলো যদি হয় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকের তাহলে তো কথাই নেই। সূচিপত্র দেখে প্রথমে একটু থমকে গিয়েছিলাম, এ ধরনের ভিন্নতা আগে চোখে পড়েনি, আমাদের জীবনকে যদি তিন ভাগে ভাগ করা যায় সূচনা, সায়হ্ন আর মধ্যভাগের মতোই জীবনের গল্প গুলো তিনটি বিভাগে ভাগ করা। সমসাময়িক ঘরানার দশটি ভিন্ন স্বাদের গল্প, কখনো মনকে প্রফুল্ল করে দিচ্ছিলো, কখনো জীবনের রুঢ় বাস্তবতা মনে ভীতির সঞ্চার করছিলো। একদম শুরুর গল্প ‘বোকামানুষি’। খুব পরিচিত প্লট। পাতা উল্টানোর সাথে সাথে গল্পের বাঁক এমনভাবে ঘুরে যাবে ভাবাই যায়না একদম! পুরো বইটির মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের গল্পটির নাম ‘আরেকটি রোদের দিনের অপেক্ষায়’ যার শুরুটা পড়েই একটু থমকে গিয়েছিলাম। 
“আমার জন্ম হলো দু হাজার তেরো সালে, তেইশ বছর বয়সে। কুসুম কুসুম হলুদ রঙ্গা এক বিকেলে আমি জানতে পারলাম এতোদিন আমার জন্ম ভুল ছিলো“ 
একটু কি হোঁচট খেলাম? জীবনের প্রতিটিদিন পার হবার পরিক্রমায় কখনো হুট করে নিজেকে আবিষ্কার করে ফেলার পর এমনই তো হবার কথা অনুভূতি তাই না? 
একইভাবে বাজনা, তাহের ফিরে এসেছিলো, মুনিয়া এবং একজন ভালোমানুষের গল্প, আলাদা আলাদা প্রহরের এই গল্প গুলো আমাদের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আস্বাদ দেয়। যত্ন পাওয়া শব্দের ঠাস বুননে লেখা গল্প গুলো আরেকটু করে যেন মানুষের জীবন পড়তে পারার সুযোগ করে দেয়। 
মানুষের ভালোবাসা, মানুষের একাকীত্ব, অসহায়ত্ব, মনের অব্যক্তভাব লেখক বড় যত্ন করে ফুটিয়ে তুলেছেন। পড়তে পড়তে কখনো সখনো নিজের মনের খুব গহীন থেকেই দীর্ঘশ্বাস চলে আসছিলো আহারে, আহারে! কখনো আবার ভালো লাগার একটা রেশ মন আবিষ্ট করে রাখছিলো অনেকক্ষণ। মনে হচ্ছিলো গল্পটা শেষ না হোক। গল্পটা বাড়ি না ফিরুক।

আমাদের জীবনের অনেক গুলো গল্প থাকে। অনেক রকম গল্প, অনেক বর্ণের গল্প। কখনো ভীষণ বাস্তবে চলি আমরা, ভালোবাসার ক্ষরায় ভুগি, কখনো জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াই, আবার কখনো এক মুঠো ছোট সুখ এসে আপনাতেই ধরা দেয়। কখনোবা নিজেকে হুট করে আবিষ্কার করি, নতুন রোদ এসে ছুয়ে দিয়ে যায়, নতুন করে ভাবতে শেখায়। দু মলাটের ছোট্ট পরিসরে এতো গল্পকে এত সযত্নে ফুটিয়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়, লেখক চমৎকার সব উপমা ব্যবহার করে বর্ণিল পৃথিবীর গল্প গুলো শুনিয়ে গেছেন আপন মুনশিয়ানায়, তাই তাকে সাধুবাদ। 
অলস একটা দুপুর কিংবা একঘেয়ে রাত্রিজাগানিয়া যদি একটু অন্যরকম করতে চান আমি বলবো বইটি হাইলি রিকমেন্ডেড। আমার পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্প গুলোর জন্য লেখক এবং বইটিকে ৪টি তারা! 
হ্যাপী রিডিং! 

পুনশচঃ গল্প গুলো বাড়ি গেছে, পেন্সিল সংকলনঃ গ্রাফাইটের গুঞ্জন, ইঙ্গিত, অলোকপুরীর ডাক, বনলতা নই, আড়াল, এক মুঠো গল্প, গল্পটি কাল্পনিক, ফিরতে হবে বই গুলো পাওয়া যাচ্ছে জাগৃতির স্টলে। হ্যাপি পেন্সিলিং! 

লিখাটি ৩২৬২ বার পড়া হয়েছে

নূহা চৌধুরী

নূহা চৌধুরী

Follow Me:

মন্তব্য

মন্তব্য করুন