শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬
 গল্প 

ধাঁধা

কোন এক বিচিত্র কারণে জাহিদ ভাই আমাকে এড়িয়ে চলেন। শুধু এড়িয়েই চলেন না, আমার ধারণা উনি আমাকে যথেষ্ট ভয়ও পান।

 

একদিন সকালে আমি দুম করে উনার রুমে গিয়ে উনাকে বললাম, "জাহিদ ভাই শোনেন, আপনি আমাকে এতো ভয় পান কেন?"

 

উনার হাতে চায়ের কাপ ছিল, সেই কাপভর্তি গরম চা ছিল। আমার কথা শুনে উনি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন। শুধু ভ্যাবাচেকা খেলে ব্যাপারটা মেনে নেয়া যেতো। উনার হাত এমনভাবে কেঁপে উঠলো, যে উনার সাদা পাঞ্জাবীর উপর কাপ থেকে অনেকখানি চা পড়ে গেল। উনি বললেন, "ক্…কই, কে বলেছে তোমাকে ভয় পাই? ভয় পাবো কেন?"

 

"আমারও তো সেটাই কথা! আমি তো বাঘও না, ভাল্লুকও না; আমার চারটা হাত নাই, মাথায় দুইটা শিং নাই, কপালে একটা এক্সট্রা চোখও নাই। কিন্তু দেখেন, আমি কথা বলতে আসলাম, আপনি সাথে সাথে কোলের ওপর চা ফেলে দিলেন! শুধু তা-ই না, আবার তোতলাতে তোতলাতে বলছেন, ভয় পান না! প্রতিটা জিনিস প্রমাণ করে আপনি একজন মহা বীরপুরুষ! দয়া করে কোলভর্তি চা নিয়ে বসে থাকবেন না; দাগ বসে যাবে।" এক নিশ্বাসে কথাগুলি বলে আমি নিচে চলে এলাম। উনাকে তোতলাতে দেখলে আমার বিরক্ত লাগে।

 

শুধু বিরক্ত না, জাহিদ ভাইয়ের উপর আমি মহাবিরক্ত। একজন মানুষের পক্ষে যতোটা গাধা হওয়া সম্ভব, উনি তারচেয়েও গাধা। একটা মানুষ যতোটা ভীতু হতে পারে, উনি তারচেয়েও ভীতু! এইরকম হাবাগোবা গোবেচারা ছেলে আমি আমার জীবনে দেখিনি। আমি অবশ্য উনার চেয়েও বড় গাধামি করেছি। কারণ আমি উনার মতো একটা গাধার প্রেমে পড়ে গেছি। আমি উনার প্রেমে রীতিমতো হাবুডুবু খাচ্ছি। উনার উচিত আমার হাত ধরে আমাকে টেনে তোলা। সমস্যা হচ্ছে উনাকে আমি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারি না। আর উনি এতো গাধা যে উনি নিজে থেকে কিছুই বুঝতে পারেন না।

 

জাহিদ ভাই আমাদের তিনতলার রুমটায় ভাড়া থাকেন। কী জানি একটা জব করেন, বেতনটেতনও মনে হয় ভালোই পান। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে উনাকে ফেইসবুকে স্টক করি। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে ইচ্ছা করে, কিন্তু আমি কাউকে রিকোয়েস্ট পাঠাই না। একদিন জাহিদ ভাই আমাকে রিকোয়েস্ট পাঠাবেন এবং আমি উনাকে সাতদিন ঝুলিয়ে রেখে তারপর এক্সেপ্ট করবো, এইটা আমার স্বপ্ন।

ব্যাচেলর মানুষকে ঘরভাড়া দিতে আমার বাবার প্রথমে যথেষ্ট আপত্তি ছিল; মা'র জন্য বাবার আপত্তি ধোপে টেকে নি। মায়ের ভাষায়,"ছেলেটাকে দেখেই কী মায়া লাগে! এই ছেলের মুখ দেখেই বলে দেয়া যায় সে সংসারের কোন প্যাঁচ বোঝে না। একা একা থাকে ছেলেটা! আমরা ভাড়া না দিলে এই ছেলে কই যাবে! " ভাবটা এই, ঢাকা শহরে আমাদের বাড়ি ছাড়া আর কোন বাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে না! শুধু কি এইটুকু? প্রতিবেলায় যা রান্না হয়, মা একটা বাটিতে করে সেইটা উনাকে দিয়ে আসেন। প্রথম প্রথম এই আদিখ্যেতা দেখে রাগে আমার গা জ্বলে যেতো। একদিন মা আমাকে বললেন, "নিতু, জাহিদকে এই বাটিটা একটু দিয়ে আয় তো মা!"

"মা, প্রতিদিন এই ঢংটা না করলে হয় না?"

 

মা চোখ কপালে তুলে বললেন,"এইখানে ঢংয়ের কী দেখলি তুই? একা একা থাকে ছেলেটা, কী খায় না খায় কোন ঠিক নাই, দেখলেই মায়া লাগে!"

 

"আল্লাহ তোমাকে এতো মায়া ক্যান দিলো মা? মায়ার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি! কী দেবে দাও আজকে। কিন্তু আর কোনদিন আমাকে কিছু দিয়ে আসতে বলবা না খবরদার! আমার অন্তর মায়াশূন্য। আল্লাহ তা'আলা আমাকে তোমার মতো মায়াবতী করে দুনিয়ায় পাঠান নাই!"

 

আমি তিনতলায় উঠে দেখি রুমের দরজা ভেজানো। আস্তে করে দরজা খুললাম। দরজার দিকে পিঠ দিয়ে উনি বিছানায় বসে আছেন, সামনে খোলা ল্যাপটপ, উনি একমনে কীবোর্ড টিপাটিপি করে যাচ্ছেন,আর কোনদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। আমি এই সুযোগে উনার রুমে চোখ বুলিয়ে নিলাম। অল্প কিছু জিনিসপত্র, বিছানা আর বইয়ের শেলফ; যতোটা গুছিয়ে রাখা যায় ঠিক ততোটাই গোছানো। ব্যাচেলর ছেলেদের রুম সাধারণত এতো গোছানো থাকে না। একটা মানুষের রুমে হুট করে ঢুকে গেলে অভদ্রতা হয় তাই আমি ছোট্ট করে একটা কাশি দিলাম। শব্দ শুনে উনি পেছনে তাকালেন এবং আমাকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন। আমি বললাম, "মা আপনার জন্য এটা পাঠিয়েছেন।"

 

উনি তাড়াহুড়া করে এগিয়ে এসে বাটি নিলেন। আমি ভ্রূ কুঁচকে বললাম, "আমি ভূত না, আমাকে দেখে এভাবে চমকে ওঠার কোন কারণ নাই।" উনি আমার কথার উত্তর দিলেন না। আমি দেখলাম বাটি হাতে উনার হাত কাঁপছে। আমি বললাম, "আপনার হাতে তো ভূমিকম্প হচ্ছে! দয়া করে বাটিটা কোথাও রেখে তারপর যতো ইচ্ছা কাঁপাকাঁপি করুন। এইটা ওরিজিনাল মুন্নু সিরামিক, মা'র বিবাহ বার্ষিকীর গিফট, এই বাটি ভাঙলে পুরো সেট নষ্ট হবে; মা আর খাবার পাঠাবেন না তখন!" বলে আর দাঁড়ালাম না,নিচে চলে এলাম। আমি বুঝতে পারলাম আমি উনাকে পুরোপুরি হতভম্ব করে দিয়েছি। উনার হতভম্ব মুখ দেখতে খুব ইচ্ছা করলো। আমি একবার পেছনে তাকিয়ে দেখলাম, উনি আমার দিকে বোকার মত তাকিয়ে আছেন। এবার আমি উনার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলাম; এই হাসি উনাকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এইটা ছিল জাহিদ ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম দেখা হওয়ার গল্প।

 

এরপরে আমি শুরু করলাম উৎপাত। যখন তখন উনার রুমে হাজির হয়ে কিছু একটা বলে উনাকে ভ্যাবাচেকা খাইয়ে দিই। কখনো উদ্ভট সমস্যা নিয়ে হাজির হই। একদিন গিয়ে বললাম, "জাহিদ ভাই, মাথার চুলে চুইংগাম লেগে গেলে কী করতে হয়?"

 

বলা বাহুল্য, উনি হতভম্ব হলেন। মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললেন, "মাথার চুলে চুইংগাম লাগবে কীভাবে?"

 

"খুব সোজা। আমি চুইংগাম চিবিয়ে আপনার চিরুনিতে লাগিয়ে দেব, আপনি জীবনে চিরুনির দিকে তাকিয়ে চুল আঁচড়েছেন বলে মনে হয় না। কাজেই আপনি ধরতে পারবেন না। কেউ একজন আপনাকে পরে দেখে বলবে, আপনার চুলে চুইংগাম লেগে আছে!"

উনি অবাক হয়ে বললেন, "এইটা তুমি কেন করবে?"

 

"আমার ইচ্ছা হয়েছে, তাই। যেকোনো দিন করে ফেলতে পারি, কাজেই চুলে চুইংগাম লেগে গেলে কীভাবে ছাড়াতে হয় সেইটা শিখে রাখেন!"

 

খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে উনাকে যন্ত্রণা করতে আমার বড় ভাল লাগে। এই যন্ত্রণা করতে গিয়ে হঠাৎ একদিন বুঝলাম, এই গাধা প্রকৃতির মানুষটিকে আমি ভালবাসি। এইবার আমি পড়লাম মহাযন্ত্রণায়। এই লোককে বোঝানোর কোন উপায় নেই, আবার নিজে থেকে কিছু বলতেও পারি না। খাওয়াদাওয়া, ঘুম, পড়াশুনা সব মাথায় উঠেছে আমার। সারাক্ষণ অস্থির লাগে। বারবার ছাদে যেতে ইচ্ছা করে। উনি যে সময়ে বের হন, আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ওপর থেকে উনাকে দেখি। উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করি, কখন মা আমাকে ওপরে পাঠাবেন তরকারির বাটি দিয়ে!

 

একদিন আমাকে দেখে মা বললেন, "নিতু তোর কী হয়েছে? চোখের নিচে এতো কালি কেন? খাওয়াদাওয়াও তো করিস না!"

"মা, চোখের নিচে কালি কারণ আমি চোখে সুলেখা কালি মেখেছি। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, এই কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো!"

"ফাজলামি না করে তুই কি কোন কথা বলতে পারিস না? বদ কোথাকার!"

"ফাজলামি কোথায় করলাম মা? রবীন্দ্রনাথ সত্যি সত্যি সুলেখা কালির বিজ্ঞাপনে এই কথা লিখেছিলেন। ঐতিহাসিক সত্য!"

মা বিরক্ত হয়ে চলে যান, আমি হাসি, পরক্ষণেই মন খারাপ হয়। ইশ! মা'কে যদি বলতে পারতাম, এই চোখের কালির জন্য দায়ী উনার আদরের পোষ্যটি, তাহলে উনি কী করতেন?

 

একদিন কি মনে হলো, আমি শাড়ি পরলাম, সুন্দর করে সাজলাম। সেজেগুজে উনার কাছে গিয়ে বললাম, "জাহিদ ভাই, আমাকে সুন্দর লাগছে না, বলুন? এমনি এমনি বললে হবে না। আমাকে দেখে তারপর বলুন!"

আমাকে দেখে উনি অনেকক্ষণ বোকার মতো আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। এরপর আমতা আমতা করে বললেন, "হ্যাঁ, লাগছে।"

"শোনেন, এরপর থেকে আমাকে সুন্দর লাগলে দয়া করে চুপ করে থাকবেন না। ডেকে বলবেন- নিতু শোনো, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে। মনে থাকবে?"

উনি মাথা নাড়লেন, থাকবে।

আমি বললাম, "আচ্ছা, আপনার মাথায় তো অনেক বুদ্ধি। একটা কঠিন ধাঁধার উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না। আপনি বলে দেবেন?"

"কী ধাঁধা?"

"এক কাজীর তিন ছেলে। সে উইল করে গেল, সে মারা গেলে তার সম্পত্তির হাফ পাবে বড় ছেলে, ওয়ান থার্ড পাবে মেজ ছেলে আর ওয়ান নাইনথ পাবে ছোট ছেলে। কাজী মারা যাওয়ার পর দেখা গেল, সম্পত্তি বলতে তার আছে সতেরোটা উট। এবার তিন ছেলে নিজেদের মধ্যে সতেরোটা উট কীভাবে ভাগ করবে তা নিয়ে বিশাল ক্যাঁচালে পড়ে গেল। কিছুতেই তারা সতেরোটা উটকে হাফ,ওয়ান সিক্সথ বা ওয়ান নাইনথ করতে পারে না; কারণ উইলের শর্ত হচ্ছে,কেউ এই উটগুলিকে বিক্রি করতে বা কেটে ভাগ করতে পারবে না । ধাঁধাটা হচ্ছে, তারা কীভাবে এই সম্পত্তি ভাগ করে নেবে?"

একটু চিন্তা করে উনি বললেন, "ধাঁধাটা কঠিন।"

"অবশ্যই কঠিন। এখনো পর্যন্ত কেউ এই ধাঁধার সঠিক উত্তর দিতে পারে নি। আমি ঠিক করেছি, এই ধাঁধার ঠিক উত্তর যে দিতে পারবে, তাকে আমি বিয়ে করবো।"

এবার উনাকে অতি বিভ্রান্ত দেখালো। উনি বললেন, "তার মানে, আমি যদি উত্তর দিতে পারি, তু…তুমি আমাকে বিয়ে করবে?"

"অবশ্যই করবো!" বলে আমি চলে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কী মনে হলো, পেছনে তাকিয়ে বললাম, "শুনুন, আপনি একমাত্র মানুষ, যাকে আমি এই ধাঁধাটা জিজ্ঞেস করেছি।"

বলতে বলতে চোখে পানি এসে গেলো। উনার মতো গাধার সামনে কেঁদে ফেললে কী ভয়ংকর লজ্জার ব্যাপার হবে! আমি দৌড়ে নিচে চলে এলাম।

 

আমি ঠিক করেছিলাম পারতপক্ষে আর উনার সামনে যাবো না। এক সপ্তাহ ছাদে যাই নি। এক বিকালে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি, মা এসে বললেন, "নিতু, জাহিদ আসছে, তোর সাথে নাকি কী দরকার আছে।"

বুকের ভেতরে ধুক করে উঠলো,উনি সত্যি সত্যি আমাকে খুঁজতে এসেছেন! মা'কে বুঝতে দেয়া যাবে না কিছু। অত্যন্ত বিরক্ত ভঙ্গিতে বললাম, "আমাকে খুঁজতে কেন আসছে? আমার সাথে উনার কী দরকার?"

"কী দরকার আমি কীভাবে বলবো? একটা মানুষ দেখা করতে আসলে মানুষ এইভাবে কথা বলে? যা,দেখা করে আয়! আমি চা বানিয়ে আনি, ছেলেটা তো বাসায় আসে না কখনো!"

"শুধু চা কেন মা? ফ্রিজে মিষ্টি আছে? না থাকলে মিষ্টি আনতে পাঠাও! জামাই আদর করো!"

"খালি মুখে মুখে কথা তোর! বেয়াদব কোথাকার! যা দেখা করে আয়! কখন থেকে ছেলেটা বসে আছে!"

 

উনার সামনে যাওয়ার আগে চট করে চুলে চিরুনি বুলিয়ে নিলাম। হালকা করে কাজল দিলাম। একটা টিপ কি দেব কিনা ভাবলাম। পরে মনে হলো, না, এরপর উনি ভাববেন উনার জন্য আমি সাজগোজ করেছি। অবশ্য লাভ নেই, উনি আমাকে আলাদা করে দেখেন না।

 

ড্রয়িংরুমের পর্দা সরিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি উনি মাথা নিচু করে বসে আছেন। আমি সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। জাহিদ ভাই উঠে দাঁড়ালেন। আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, "নিতু, তোমাকে সুন্দর লাগছে।"

 

আমি চুপ করে রইলাম।

উনি আবার বললেন, "আমি তোমার ধাঁধার উত্তর খুঁজে বের করেছি। গত এক সপ্তাহ তোমার খোঁজ নিই নি কারণ আমি ধাঁধার উত্তর নিয়ে ধাঁধায় পড়ে গেছিলাম। তুমি কি উত্তরটা শুনতে চাও?"

 

আমি মাথা নাড়লাম, ধাঁধার উত্তর শোনার প্রয়োজন নেই। এবং আমি এটাও লক্ষ্য করলাম, উনি একটুও তোতলাচ্ছেন না। উনি এই এক সপ্তাহ আমার এক কথার ওপর ধাঁধার উত্তর খুঁজেছেন, এটা ভেবে আমার চোখে পানি এসে গেলো।

"আচ্ছা, আমি তোমাকে আমাদের বিয়ের রাতে উত্তরটা বলবো, কেমন?"

আমি এবারও চুপ করে রইলাম। উনি যে আমাকে ভালবাসেন, এই কথাটা আমাকে উনি আমার চেয়েও সুন্দর করে বলেছেন।

 

ধরা গলায় আমি শুধু এইটুকু বললাম, "আর কোনদিন আপনাকে ভীতু বলবো না!"

 

লিখাটি ৪০৮০ বার পড়া হয়েছে

তাসনিয়া আহমেদ

তাসনিয়া আহমেদ

https://www.facebook.com/tasnia.efa?lst=1178260450%3A100000711684628%3A1536693594

Follow Me:

মন্তব্য

মন্তব্য করুন