ভ্রমণ কাহিনী 

মাত্রা, মাস্কাট, ওমান

এটা ওমানের রাজধানী মাস্কাটের একটা স্ট্রিট স্কাল্পচার।
এটা তৈরীর পিছনে কোনো কারণ আছে কিনা তা জানার জন্য আমি অনেকদিন সময় নষ্ট করেছি, পাইনি।
আমি সব ব্যাপারেই একটু বেশি সিরিয়াস। ‘টেক ইট ইজি’ ব্যাপারটা আমার ভেতর কাজ করেনা ইজিলি। মানুষ হিসাবে আমি কিন্তু ভীষণ সহজ। এই দ্বৈত আচরণের মানে কি, আমি জানিনা।

মাস্কাট, খুব সুন্দর একটা নগরী। এমনি এমনি ঘুরে বেড়ানো যায়। পুরোটা মাস্কাট ঘোরার জন্য একদিনই যথেষ্ঠ। পুরোটা মাস্কাট ঘোরার জন্য একদিনই যথেষ্ট, কথাটা সম্পূর্ণ ভুল। মাস্কাটের এক মাত্রা কর্ণিশে আমাকে কেউ যদি কোটি টাকা দিয়ে ছেড়ে দেয়, বিশ্বাস করো আমি পিছনে তাকাবোনা এক মুহূর্তের জন্য। আমি সুন্দর দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে আলাদিনের জাদুর চেরাগ, জেসমিনের হীরা-জহরত আর সিন্দবাদের দূরবীক্ষণ যন্ত্র কিনে বেড়াবো।

শুধু কি তাই? উঁহু!!

তুরষ্কের ঝাঁড়বাতি, সিরিয়ার ওয়ালম্যাট, বিভিন্ন আরবদেশের নানাধরনের কারুকাজকরা সিন্দুক, গুজরাটি কাঠের বাক্স আর ......

আমি জানিনা, আমি তোমাদের সবাইকে নিয়ে শুধু একটা দিন যদি মাত্রায় ঘুরিয়ে আনতে পারতাম! 
এরপর সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে মাত্রা কর্ণিশে বসে পড়বো বিভিন্ন ফ্লেভারের এরাবিয়ান কাহ্ওয়া এবং হালওয়া নিয়ে। পেট যদি বেশি ইটিশ-পিটিশ করে তাহলে গেবন (চীজ) আর হানির মিশ্রণে ফাতায়ের কিংবা এরাবিয়ান শর্মা নিয়ে বসলেই চলবে।

সাগরের মৃদু হাওয়া কখন যে তোমাকে মধ্যরাতে পৌঁছে দিবে, তা টেরও পাবেনা। তাড়া না থাকলে, কোনো পুরানো বন্ধুর কাছে নেমন্তন্ন না থাকলে মাত্রা কর্ণিশের বসে সময় কাটানোর চেয়ে সুন্দর আর কিছুই হতে পারেনা। সাগরের বুকে কিছু নোঙ্গর তোলা ক্রুজবোট তো আছেই, আরো আছে ঝাঁকে ঝাঁকে সীগাল। আমি আছি, আমার মতো আরো ‌অনেক সৌন্দর্যপিপাসু আছে। আমার বরের মতো কিছু সাইক্লিষ্ট আছে, আমার ছোট দুকন্যার মতো কিছু দূরন্ত শিশু আছে, আমার বড়কন্যার মতো উদাসী পাঠক আছে।

অপরদিকে আলো ঝলমলে মাস্কাট বসে আছে, রাতের চিহ্ন শুধু আঁধারেই বোনা আছে। এমন সুন্দর দিনগুলোতে মাস্কাটের মাত্রায় সন্ধ্যার পর থেকে দারুণ সময় কাটে। দিনে ৪৫-৫২•সেলসিয়াস তাপমাত্রার মাস্কাট এসময়ে ২৪-২৫•সেলসিয়াস নেমে আসে।

সুন্দর কিছু সময় আমি মাত্রায় ছেড়ে এসেছি, আর মুঠো মুঠো স্মৃতি আমি হৃদয়ে পুরে রেখেছি, সুগন্ধির মতো। আরব সুগন্ধি। ভালোবাসার অপর নাম মাত্রা।

লিখাটি ২৪৫৪ বার পড়া হয়েছে

মাহফুজা বেগম স্নিগ্ধা

পেশাদার জীবনে ডাক্তার মাহফুজা বেগম স্নিগ্ধা লেখালেখির সঙ্গে জড়িত সেই ছাত্র জীবন থেকেই।
তার ভাষায়, 'তিনটে ফুটফুটে প্রজাপতি আমার আঙিনাজুড়ে উড়ে বেড়ায়, আমি ছুটে ছুটে ফিরি তাদের পিছু, ধরতেই পারিনা। আমার আঙিনাজুড়ে রয়েল মেলায় তারা প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হয়ে যায়, আমি তাদের বেড়ে উঠা দেখি, তাদের ছুটাছুটি দেখি প্রিয় সঙ্গীর হাতে হাত রেখে, চোখে রেখে চোখ। কিছুটা সময় অমরাবতী হোক, আলো হোক, রঙধনু হোক।'

Follow Me:

মন্তব্য

মন্তব্য করুন